Get the Latest News & Videos from News24 > জাতীয় > মুক্তি রানী হত্যাকারীর শাস্তি ও চেয়ারম্যান সাইতুলের বহিস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

শুক্রবার সকাল ১০.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দিপঙ্কর শিকদার দিপুর সভাপতিত্বে আয়োজিত নেত্রকোনা দশম শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তি রানী বর্মনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও খুনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অত্র মামলাটি  দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবিতে এবং বরগুনা বামনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা কর্তৃক অত্র থানার পুলিশ কর্মকর্তাকে মালাউন বলে গালিগালাজ করায় তাকে বহিস্কারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

উক্ত মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্রের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ডা. প্রীতিভূষণ ভট্টাচার্য,সিনিয়র সহ-সভাপতি অনুপ কুমার দত্ত, বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-এর সাধারণ সম্পাদক এড. সুমন কুমার রায়, এড. গৌরঙ্গ লাল মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. সঞ্জয় কুমার দুর্জয়, বিপুল বার, এড. প্রকাশ হালদার, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীন হালদার, শ্যামল দাস, গোপাল কর্মকার, বিলাশ বিশ্বাস, দেবব্রত নন্দী, উজ্জল কর্মকার, সনাতন স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের নিহার হালদার, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাসংঘের সভাপতি পিযুস দাস, সাধারণ সম্পাদক আকাশ চন্দ্র শীল, আকাশ মিত্র, আখী রানী দাস, চন্দন, তৃপ্তিপাল, প্রসেনজিত মিত্র, বাসুদেব ভক্ত ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ সনাতন পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন গোস্বামী পুলক, বাংলাদেশ হিন্দু মহিলা পরিষদের শ্রীমতি গৌরী রানী রায়, শ্রীমতি রিতা দাস, মনোরঞ্জন মধু, অমর চক্রবর্তী, লিটু চন্দ্র ঘোষ, এমকে ঘোষ, গোবিন্দ মাতা রূপোম সরকার, অধ্যাপক উৎপল দাস, শিপন কুমার শিপু, জনি মজুমদার, বিপ্রেশ দাস, জুয়েল দেব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দিপঙ্কর সিকদার দিপু নেত্রকোনার দশম শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তি রানী হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিত করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মি¯্র বলেন, এই ধরণের হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের বিচার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে বহুবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু তারপরও আমরা সুষ্ঠ ও ন্যায়-বিচার এবং নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। সরকার যদি আমাদেরকে নিরাপত্তা দিতে না পারেন তাহলে প্রয়োজনে আমাদের আলাদা বসবাসের জন্য ব্যবস্থা করুন।


বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) এর সাধারণ সম্পাদক এড. সুমন কুমার রায় বলেন, বামনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একটি রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্টিত ও একজন জনপ্রতিনিধি। তার মতো ব্যক্তি যদি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে মালায়ন বলে গালি দেয়ার পরেও সেই পদে বহাল থাকে তাহলে এর মধ্যদিয়ে বোঝা যায়, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা বিরাজ করছে। যা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চেতনার পরিপন্থি। আজকের এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের পক্ষ থেকে বামনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইকতুল ইসলাম লিটুকে অনতিবিলম্বে তার পদ থেকে বহিস্কার ও নেত্রকোনার এসএসসি পরীক্ষার্থী মুক্তি রানী হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি ও অত্র মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের জোর দাবি জানাই। তিনি আরো বলেন যে, সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা একটা ঘটনারও সুষ্ঠ বিচার হয়নি। সরকার নিরাপত্তা দিতে না পারলে সংখালঘু সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা বাসস্থানের দাবিতে আগামী দিনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রাজপথে থাকবে। এছাড়া বক্তাগণ অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার স্বার্থে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ঘোষিত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
 
উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাসংঘের সভাপতি পিযুষ দাস, জননীতি কংগ্রেসের চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেন, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী সাবের আহমেদ সাব্বির, ইন্টারন্যাশনাল শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের প্রবীণ হালদার ও বিভিন্ন মঠ-মন্দির এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *