৪৬ বছর পর প্রিয়জনকে কাছে পেয়েও চেনা হল না, ফেসবুক চিনিয়ে দিল! (ভিডিওসহ)

সুভাষ সাহা: গতকাল মোবাইলের ‘ফটো এ্যাপসের’ অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও ডিলিট করার সময় হঠাৎ ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চোখে পড়ে। কে কোথায় কখন এ দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারন করেছিল, আবার আমারই মোবাইলে আসলো কেমন করে! মনে করতে পারছি না।

খুব চেনা লাগছে। যতোই দেখছি আর অবাক হচ্ছি! কে এই শুশ্রুমণ্ডিত লোকটি? কিছুতেই মিলাতে পারছিলাম না। ১৯৭১-৭৪ সালের কথা। সিনেমার পোকা ছিল। নামও ভুলে গেছি। ভালো ক্রিকেট খেলতো। টেস্ট ক্রিকেটারের পোশাকের আদলে সাদা পেন্ট শার্টে বেশ স্মার্ট চলাফেরা। এখনকার সাথে বিন্দুমাত্র মিল নেই!
পোশাকে আমূল পরিবর্তন। শুশ্রুমণ্ডিত। বিবর্ণ চেহারা!

৪৬ বছর পর প্রিয়জনকে কাছে পেয়েও চেনা হল না, ফেসবুক চিনিয়ে দিল!

৪৬ বছর পর প্রিয়জনকে কাছে পেয়েও চেনা হল না, ফেসবুক চিনিয়ে দিল!

Posted by News 24 Bd on Saturday, August 1, 2020

এতোটা পরিবর্তন? নাহ্ কোথাও ভুল হচ্ছে না তো? খটকা লাগছে! আগের সেই বড়লোকি জৌলুশের ধারেকাছেও নেই! সেই স্টাইলিশ আর আজকের বয়সের ভারে ন্যুজ মানুষটিকে চেনার কোন উপায় নেই।
শুধু নাক ও গায়ের রঙে পরিবর্তন নেই।

সিনেমার পোকা তোলারাম কলেজের সেই সহপাঠী প্রতি সপ্তাহে ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে গুলশান সিনেমা হলে ইংরেজি ছায়াছবি দেখতে সঙ্গী করে নিয়ে যেতো আমাকে। টিকেট সে ই কাটতো। সত্তর দশকের সেই সুখকর স্মৃতির বিশেষ অংশ প্রিয় বন্ধুকে ৪৫/৪৬ বছর পর কাছাকাছি দূরত্বে দেখেও চিনতে না পারাটা সত্যি দুঃখের!
আমাকে হয়তো কিছুটা চিনতে পেরেই ইতস্ততভাবে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে স্মৃতির পাতায় খোঁজ করছিল!
চোখে চোখ পড়তেই চোখ সরিয়ে নিচ্ছে!বারবার! কোন কথা হয়নি।

কিন্তু আজ মাত্র ৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি দেখার পর মোবাইলের ডিটেইলস চেকিংয়ে দেখি তারিখটা ছিল ২ জুন, ২০১৮। এতোকাল পর ঠিক মেলাতে পারছি না। খুব চেনা লাগছে। কে তিনি? কে হতে পারে? প্রায় ৩০০ ছবি ডিলিট করে এ ভিডিও টি কৌতূহল বশতঃ ফেসবুকে আপলোড দেই। তাপস দাস কমেন্ট করে জানান, তাঁর নাম ছামসুদ্দিন। বাড়ি ‘বন্দর’। দেলোয়ার টাওয়ার কাজ করে। এবার মেলাতে থাকি। নাকটা মিলে যাচ্ছে।
নামটা মনে নেই। ভালো ক্রিকেট খেলতো। সাদা পেন্ট-শার্ট বেশি পড়তো।অনেকটা টেস্ট ক্রিকেটারের পোশাক।
স্মার্ট। সিনেমার পোকা। খুব স্টাইলিশ সেই বন্ধুটি তো? এক এক করে মেলাচ্ছি।

সিনেমা শেষে আমাকে ডালপট্টির তৎকালীন বাসায় নামিয়ে মাছুয়া বাজার খেয়াঘাট দিয়ে নদী পার হতো। এটুকু মনে আছে নবীগঞ্জ থেকে আসাযাওয়া করতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক সহপাঠীর সাথে দেখা হয়, কিন্তু সিনেমার সাথী সহপাঠীর আর দেখা পাইনি! কোথায় যেন হারিয়ে গেল!

তাপসের কমেন্ট দেখার পর এখন আমি প্রায় নিশ্চিত সেই সিনেমার পার্টনারই তিনি! তাপস আশ্বস্ত করলো, কন্টাক্ট নাম্বার আজ কালের মধ্যে যোগাড় করে দেবে। বয়স হয়তো আমার চেয়ে ২/১ বছর বড় হতেও পারে।ফেসবুক এমন অনেক হারানো মানুষের সন্ধান দিয়েছে। আমিও হয়তো পেয়ে গেছি!এখন শুধু অপেক্ষা?

নিউজ২৪.ওয়েব/ডেস্ক/মৌ দাস

news24 bd

Read Previous

পাঞ্জাবে বিষাক্ত মদ্যপানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে

Read Next

ঈদের ছুটি শেষ হচ্ছে সোমবার: খুলছে অফিস-আদালত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *