একজন শ্রী শচীন্দ্র লাল সরকার, যার তুলনা তিনি নিজেই…

অনলাইন ডেস্ক: পৃথিবীতে এমন অনেক গান আছে, অনেক সুর আছে যা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে উপস্থাপনার অভাবে হারিয়ে গেছে প্রায়। আপনিও হয়তো সেরকম একটি সুর, হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম;

কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনা, মননে যার এতো শুদ্ধতা এতো শক্তি, সে কখনোই হারিয়ে যেতে পারে না। তাঁর কর্মই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে আপন মহিমায়।

আপনাকে প্রথম যেদিন দেখি, আমি তখন আপনার প্রতিষ্ঠিত শচীন্দ্র কলেজের ছাত্র। কতো আবেগ, কতো উৎকন্ঠা…ক্রিকেট কিংবা ফুটবল জগতের কিংবদন্তি, রাজনৈতিক কোন নেতা কিংবা তারকা খ্যাতিসম্পন্ন কোন ব্যক্তির জন্যও এতো আগ্রহ তৈরি হতো কি না আমার জানা নেই। কিন্তু যখন দেখলাম, আপনার সহজ সরল চাহনি আর নিষ্পাপ কথন, কিছুক্ষণের জন্য যেনো স্থবির হয়ে গেলাম। এতো বড় একজন দানবীর, শিক্ষানুরাগী কিভাবে এতো সাধারণ হতে পারেন!

একবার মনে আছে HSC পরীক্ষার যখন রেজাল্ট হয়, আমাদের কলেজ ছিল সিলেট বোর্ডের সেরাদের মধ্যে একটি, আর আমি মানবিক বিভাগ থেকে হবিগঞ্জ জেলায় প্রথম হলাম।বাবুর সাথে যখন দেখা করতে গেলাম, কতো আনন্দই সেদিন পেয়েছিলেন তিনি। আমাকে বুকে জড়িয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বললেন,বাবা তুমি আমার সম্মান রেখেছো।দেখবা;তোমরাই একদিন অনেক বড় হবা। এই সমাজের মুখ উজ্জ্বল করবা,এই দেশের জন্য অনেক কিছু করবা আর গর্বে আমার বুকটা ভরে যাবে…

বিজ্ঞাপনটি দেখতে ক্লিক করুন

সহজ সরল আর আত্মতুষ্টিতে ভরা সেদিনের সেই বাক্যগুলো আজো আমাকে শিহরিত করে,হৃদয়ে স্পন্দন তৈরি করে। আর আমার কণ্ঠকাকীর্ণ বিপদসংকুল সময়েও পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছিলেন পরমস্নেহে অকাতরে।

পরবর্তীতে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই,তখনো পরম মমতায় কাছে নিতেন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি সহ নানারকমের গল্প শুনতেন মুগ্ধতার সাথে…নিষ্পাপ শিশুর মতো।

আবার যখন BCS (Police) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হই, তখনও দেখা করতে গেলে সেই একই অবস্থা, পরম মমতায় কাছে টেনে নিয়ে গল্প শুনতেন আর নির্মল আনন্দ পেতেন। বলতেন যাহোক, এখন আমাদের একজন নিউটন আছে।

তাঁর এই আত্মতৃপ্তি আর মানসিক প্রশান্তি আমার পিতার চেয়েও কোন অংশেই কম ছিল না।বলতেন, তোমাকে নিয়ে একদিন কলেজে যাবো, সবাইকে দেখিয়ে বলবো; তোমাদেরও একদিন বড় হতে হবে অনেক…হতে হবে মানুষের মত মানুষ।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, প্রিয় প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হয়নি আর তাহার সনে, কথা বলা হয়নি প্রিয় মানুষগুলোর সাথে।

যাক্, সব কথা সবসময় শোনা হয়ে ওঠে না, আর সব কথা শুনতেও হয় না; হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। তাঁর বার্তা কিংবা মনের কথা আমরা জানি,আমরা জানি সেদিন তিনি কি বলতে চেয়েছিলেন; শিক্ষার্থীরা ছিলো তাঁর সন্তানতুল্য, এই শিক্ষার্থীরাই একদিন আলো ছড়াবে সমাজে, শিক্ষিত মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আলোকিত সমাজ গড়বে তারা।শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতা, মেধা মননে দেশ এগিয়ে যাবে অনেক দূর। হয়তো এটাই ছিল তাঁর অব্যক্ত বাণী,সেদিনের অন্তর্নিহিত বার্তা।

মানবিক আর দানবীর শব্দদ্বয় আপনার সাথেই ভালো মানায়। জীবনের সমস্ত চিন্তা যার শিক্ষা তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে, সমগ্র সম্পত্তি যেখানে মানুষের শিক্ষার নিমিত্তে অকাতরে দান করেছেন। স্কুল, কলেজ আর বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন, সকল সহায় সম্পত্তি দিয়ে শিক্ষা ট্রাস্ট গঠন করেছেন, দানবীরতো তিনিই; তিনিই শ্রেষ্ঠ।

মননে আর চিন্তায় যিনি এতো সমৃদ্ধ, কোন অপশক্তিই তাঁকে আর রুখতে পারে না। শ্রী শচীন্দ্র লাল সরকার, যার তুলনা তিনি নিজেই; আপনারা মহান,অক্ষয়,অবিনশ্বর আপনারা ক্ষণজন্মা, আপনাদের জন্যই পৃথিবী এতো সুন্দর।

নমস্য হে কীর্তিমান পুরুষ;
ওপারে ভালো থাকুন…
আর বেঁচে থাকুন আপন মহিমায়
অনন্তকাল ধরে…মানুষের ভালবাসায়।

সূত্র: শুদ্ধ বার্তা

নিউজ২৪.ওয়েব/ডেস্ক/মৌ দাস

news24 bd

Read Previous

পাওনা টাকা না পাওয়ায় বাংলাদেশি পোশাক কারখানা মালিকের কান্না

Read Next

‘আমি একজন মস্ত জ্ঞানী’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *