আ.লীগ নেতার অফিসে মধ্যযুগীয় নির্যাতন (ভিডিও সহ)

অনলাইন ডেস্ক আলাউদ্দিন হাওলাদার একজন আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার। তার আরেকটা পরিচয় হচ্ছে, তিনি প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি।

তবে, এর পূর্বে সাবেক এমপি কবরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দাবড়িয়ে বেড়িয়েছিলেন পুরো কুতুবপুর। সন্ত্রাসী আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়াসহ ভূমিদস্যুতারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় পর্যায়ে একজন বিতর্কীত এই আলাউদ্দিন মেম্বার।

স্থানীয়দের সূত্রে, নানা অপকর্ম করার পরও তার টিকিটিও কেউ ছুঁতে পারেনি। কুতুবপুর এলাকায় যারা নতুন বাড়িঘর করেছেন, তারা এই আলাউদ্দিন হাওলাদারের গল্পটা একটু অন্দরের জানেন। স্থানীয় অনেকেই আছেন, এই আওয়ামী লীগ নেতার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস দেখান না। কথিত রয়েছে, তার অফিস নির্যাতনের টর্চারসেল হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।

এবার সেই আলাউদ্দিন হাওলাদারের টর্চার সেলের ভেতর দুই যুবককে অমানসিক নির্যাতন করার একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। কতটা বর্বর হলে এভাবে মানুষকে পেটাতে পারে, তা ওই ভিডিও না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়।


ভিডিও সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের শেষ দিন তথা থার্টিফার্স্ট নাইটে নাইম ও রাতুল নামে দুই যুবককে ধরে এনে চোর আখ্যা দিয়ে আলাউদ্দিন হাওলাদারের অফিসে গরু পেটা পেটানো হয়। পরবর্তীতে একটি ছাগল দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিলো।

ভুক্তভুগি নাঈমের মা নাজমা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার পোলায় প্রিন্টিং কারখানায় কাম করে। ৩১ ডিসেম্বর রাতুলের লগে পোলারেও ধইরা লইয়া যায়। মারতে মারতে লইয়া গেছে। পরে আবার আলাউদ্দিন হাওলাদার তার অফিসে লইয়া গিয়া ইচ্ছামত মারছে। কুত্তারেও মাইনষে অমনে পেডায় না। আমার পোলায় অন্যায় করলে আমগো জানাইতো, পুলিশরে দিতো, হেয় অমন কইরা মারলো ক্যান। আমি এর বিচার চাই।

এদিকে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন হাওলাদার মারপিটের কথা স্বীকার করে সাংবাদিদের বলেন, তারা ছাগল চুরি করেছিলেন। সিসি টিভির ফুটেজে ধরা পড়েছিলো। পরে ছাগলের মালিক থানায় অভিযোগ করলে একজন দারোগা আসেন এবং আমার উপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য (তবে তিনি দারোগার নাম বলতে পারেননি)। পরে আমি রাতুল নামের একজন ধরে আনার পর সে স্বীকার করছিলো না। পরে তাকে পিটুনি দিলে সে স্বীকার করে এবং নাঈম সাথে ছিলো জানায়।

তিনি আরও বলেন, নাঈমকে ধরে আনার পর প্রথমে স্বীকার না করলে তাকেও কয়েকটা বারি দেওয়া হয়। পরে তারা স্বীকার করে জালকুড়ি ছাগল বিক্রি করেছে। এরপর দারোগাকে খবর দিলে সেই ছাগলসহ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আ.লীগ নেতার অফিসে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

আ.লীগ নেতার অফিসে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

Posted by News 24 Bd on Thursday, January 9, 2020

এদিকে ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই যুবককে পেটানো হচ্ছে। আর সেই পেটানোর নির্দেশ দিচ্ছেন আলাউদ্দিন হাওলাদার। কিন্তু পিটুনি দুই চারটে বারি নয়, অনেকটা অমানবিক ভাবে পেটানোর মত। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

যেখানে পুলিশ প্রশাসন আছে। আদালত আছে, সেখানে অমন ভাবে পেটানো যে আইনে অপরাধ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, হ্যাঁ, এটা অন্যায় হয়েছে। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নাই। তাই মাইরটা একটু বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু আমি তো ছাগল উদ্ধার কেরছি।

অপরদিকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ছাগলসহ দুজন নাঈম ও রাতুলের ছবিসহ তাদের ফেসবুক পেজে একটি ছবি দিয়ে সেখানে জানিয়েছিলেন, শাহী মহল্লা এলাকা থেকে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর শফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে দুটি বিদেশী জাতের ছাগল চুরি হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ থেকে সে ছাগল উদ্ধারসহ দুজনকে আটক করা হয়। ১ জানুয়ারি তাদেরকে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু আলাউদ্দিন হাওলাদার দাবি করেছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকা থেকে ছাগল উদ্ধার করা হয়েছিলো।

এদিকে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারে না। এটা অবশ্যই অপরাধ। এভাবে যদি পিটিয়ে থাকে, সেটি যদি আমাদের নজরে আসে অথবা কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে অবশ্যই আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো

নিউজ২৪.ওয়েব/সংবাদদাতা/নিরাক হাসান

news24 bd

Read Previous

ঘুষ ও দুর্নীতির পৌনে ২ কোটি টাকাসহ প্রকল্প কর্মকর্তা আটক

Read Next

সাপাহারে মোটর শোভাযাত্রা দেখে বাড়ী ফেরার পথে ১৭ শিক্ষার্থী আহত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *