ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, আহত অর্ধ শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক: রাত পৌনে ৩টা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের বেশিরভাগ যাত্রী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে বিকট শব্দ ঘুম ভাঙে সবার। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে বিরাজ করছিল সুনসান নীরবতা মুহূর্তের মধ্যে সেখানে শুরু হয় মানুষের গণনবিদারী আত্মচিৎকার। আবার অনেকেই ঘুমের মধ্যেই চলে যান না ফেরার দেশে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন মারা যান। পরে মারা যান আরও সাতজন।

দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া শরিফুল নামে এক যাত্রী দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ট্রেনের প্রায় সব যাত্রীই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে সবার। চোখ খুলেই দেখেন চারপাশ লন্ডভন্ড। ট্রেনের যাত্রীরা বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করছেন। অনেক জায়গায় হতাহতদের রক্ষের ছাপ। যারা বেঁচে আছেন তাদের অনেকে জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ বের হতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। সে এক বীভৎস দৃশ্য। এসব কথা বলার সঙ্গে তিনি হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

শেষ রাতের ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনের বেশ কয়েকটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে তিনটি বগি প্রায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। হতাহতদের বেশিরভাগই উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনের তিনটি বগির যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল ও কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ শনাক্তের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনমোরাাদ এলাকার আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), আনোয়ারপুর এলাকার মো. হাসানের ছেলে আলী মো. ইউসূফ (৩৫), চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও এলাকার সুজন (২৪), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজাগাঁও এলাকার মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা (৪২)।

মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি এক নম্বর লাইনে ঢুকছিল। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথাকে আউটারে থাকার সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চালক সেই সিগনাল অমান্য করে মূল লাইনে ঢুকে পড়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আমার কোনো দোষ নেই।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তূর্ণা নিশীথা ট্রেনটি সিগন্যাল অমান্য করে লাইনে ঢুকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ধাক্কা দিয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আহতের চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।-সূত্র: জাগো নিউজ

নিউজ২৪.ওয়েব/ডেস্ক/নিরাক

newsthree

Read Previous

সরকারি জায়গা দখল করা ১২’টি দোকানে আগুন: ২০’লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

Read Next

ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুটি খুঁজে পাচ্ছে না কাউকেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *