যে গল্পের শেষ নেই: একজন দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা

নিউজ24 ডেস্ক : অতি দরিদ্র এক পরিবার থেকে উঠে আসা রণদা প্রসাদ সাহার মা কুমুদিনী সাহা টিটেনাস রোগে চিকিৎসার অভাবে মারা যান। সেদিনই জীবনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন জীবনে দরিদ্র মা ও মহিলাদের জন্য কিছু করে যাবেন। চৌদ্দ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতা চলে গেলেন একদিন। কাজ নিলেন পত্রিকা হকারের। রাতে হোটেলে থালা বাসান মাজার কাজ করতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঙ্গল অ্যাম্বুলেন্স কোরে যোগ দিয়ে চলে গেলেন ইরাক। যুদ্ধে যুদ্ধাহতদের সেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাঁকে স্বর্ণপদকের সঙ্গে নবপ্রতিষ্ঠিত (১৯১৬) বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন প্রদান করা হয়। যুদ্ধ শেষ হলে ১৯১৯ সালে পঞ্চম জর্জের সাথে সাক্ষাতের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড সফর করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে সেনাবাহিনী ত্যাগ করে রেলওয়ে বিভাগে টিকেট কালেক্টরের চাকরি নিলেন।

১৯৩২ সালে চাকরিকে চিরবিদায় জানিয়ে নিজের জমানো টাকা ধার দেনা করে শুরু করলেন লবন ব্যবসা, কয়লার ব্যবসা। জাহাজের ব্যবসা, পাটের ব্যবসা, চামড়ার ব্যবসা, পাওয়ার হাউজ। পরিণত হলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম ধনকুবের ও সম্পদশালী।
একদিকে টাকা আসতো তাঁর কাছে অন্যদিকে দান করতেন। তাঁর কাছে গিয়ে ফেরত এসেছেন এমন কোন অভাবী মানুষ নেই। ১৯৩৮ সালে টাঙ্গাইলে গড়ে তুললেন “কুমুদিনী ডিস্পেনসারি” নামের একটি ২০ শয্যার হাসপাতাল। সেটিই আজকের বিখ্যাত ৭৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুমুদিনী হাসপাতাল। যে হাসপাতাল দেশের সবচেয়ে বড হাসপাতালগুলোর একটি।

যে গল্পের শেষ নেই: একজন দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা

যে গল্পের শেষ নেই: একজন দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা

Posted by News 24 bangladesh on Tuesday, July 23, 2019

কেবল এখানেই শেষ নয়। বিখ্যাত ভারতেশ্বরী হোমস তাঁর হাতে গড়া। যা ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আবাসিক বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি।
মানিকগঞ্জের বিখ্যাত দেবেন্দ্র কলেজ গড়লেন তিনি বাবার নামে। মির্জাপুরে কুমুদিনী নার্সিং মহিলা স্কুল ও কলেজ, মির্জাপুর কলেজ, মির্জাপুর এস কে পাইলট বালক ও বালিকা বিদ্যালয় সবই তাঁর হাতে গড়া।

নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ প্রতিষ্ঠায়ও রণদা প্রসাদ সাহার বিশাল অবদান রয়েছে।
১৯৪৩ সালেের আগেপরে তোলারাম কলেজ প্রতিষ্ঠায় ১লাখ ৭৫ হাজার টাকা দান করেছিলেন। মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠায় রণদা প্রসাদ সাহা ১৯৪৩ সালে দান করেছিলেন ৬০ লাখ টাকা।
দেবেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ উর্মিলা রায় মানিকগঞ্জের সন্তান। শশুরালয়ও মানিকগঞ্জে।
দেবেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীও ছিলেন।দেবেন্দ্র কলেজের নির্মাণ ঠিকাদার ছিলেন উর্মিলা রায়ের পিতা উপেন্দ্র কিশোর মজুমদার ওরফে টগর মজুমদার। শৈশবে রণদা প্রসাদ সাহাকে কাছে থেকে দেখেছেন উর্মিলা রায়।
দেবেন্দ্র কলেজে রণদা প্রসাদ সাহার কোন ছবি পর্যন্ত ছিল না। প্রতিষ্ঠাতার জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়না এ কলেজে। কলেজ প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদা সাহাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন উর্মিলা রায়।
ক্যামেরায় ছিলেন, নিরাক হাসান প্রেম। সম্পাদনায় রেজাউল হৃদয়।

গড়ে তুললেন দেশের সবচেয়ে বড় ট্রাষ্ট “কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল”। তাঁর লাভজনক সকল প্রতিষ্ঠানের মোট আয়ের অর্ধেক ব্যয় করা হতো মানুষের কল্যাণে।
কেবল ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় রনদা প্রসাদ সাহা দান করেছেন ৩ লক্ষ টাকা। যা আজকের বাজারে শত কোটি টাকারও বেশী। সারাদেশে ২৫০ র বেশী লঙ্গরখানা খুলেছিলেন।
১৯৭১ সালের ৭ই মে পাকিস্তানী হানাদারেরা তুলে নিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে দানবীর রনদাপ্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলে ভবানীপ্রসাদ সাহাকে।

নিউজ24 ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

MD Hridoy

Read Previous

প্রিয়ার অপ্রিয় বচন ও সংখ্যালঘু নির্যাতন

Read Next

সরকার কেন আমার বক্তব্য নিয়ে ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিল? প্রিয়া সাহা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *