এরশাদের যোগ্য উত্তরসূরী ব্যারিষ্টার সুমন!

নিউজ২৪.ওয়েব: Swear Upon Ershad, অনেকবছর পর ব্যারিস্টার সুমন সাহেবরে ওইরকম পানি-কাদা-ডোবা-নালায় নামতে দেখে লেজে হুমু’র কথা পড়ে গেছে। তখনই মনে হয়েছে ডালমে কুছ কালা হ্যায়!

লোকটাকে খানা-খন্দে, পুকুরে-ডোবায় নেমে লাইভ করতে দেখেই সন্দেহ হয়েছিল। ৮৮ সালের বন্যার কথা অস্পষ্টভাবে মনে আছে। প্রেসিডেন্ট এরশাদরে দেখতাম প্যান্টফোল্ড করে বন্যার পানিতে নেমে একটা দুখী দুখী মুখ করতে। মনে হতো ভয়াবহ বন্যার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব তার নিজের।

অবশ্য তিনি আরও আগে থেকেই নিজেকে দেখাতে শুরু করেন। যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইবুনালের প্রোসিকিউটর হওয়ার সুবাদে একসময় নিয়মিত ক্যামেরার সামনে আসার সুযোগ পেতেন। মানে কয়েকজন প্রোসিকিউটরের পেছনে তাকে দেখা যেতো। দীর্ঘ দেহের সুযোগ নিয়ে ঠেলেঠুলে এমন পজিশনে ঘাড়-গর্দানসহ মাথাটাকে স্থাপন করতেন যে আপনার আমার না দেখে উপায় ছিল না। (আমার কথা বিশ্বাস না হলে ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন)

ছাত্র জীবনে মিছিলে-মিটিং-এ এই টাইপের সুযোগ সন্ধানী শো-অফ করা লিডার প্রচুর দেখেছি। ব্যানার ধরার জন্য এক ইঞ্চি জায়গা নেই কিন্তু যে-ই টিভি ক্যামেরা এলো, অমনি হঠাৎ বাজপাখির মতো এসে ঠেলেঠুলে সামনের দিকে ঠিকই জায়গা করে নিতেন এরা।

ব্যারিস্টার সুমন সাহেব আজ হোক, কাল হোক ধরা খেতেন। মানে তার মুখোশটা খুলে পড়তই। তার ধান্দাবাজ মুখখানা বেরিয়ে পড়তই। সিরিয়াসলি আমি অপেক্ষায় ছিলাম। বিভিন্নজনের কাছে তার নামে জয়ধ্বনি শুনতাম, কিছুই বলিনি এতদিন। জানতাম বলে লাভ নেই। স্রোতের অনুকূলে গা ভাসানো ভেড়ার পালদের কিছু বলা মানে ইন্সট্যান্ট ভোঁদাই বনে যাওয়া। আরিফ আর হোসাইন, ব্যারিস্টার সুমন এরা ইডিয়ট পাবলিকের পালস বোঝে। কখন, কী বললে লাইক, শেয়ার, সাবস্ক্রাইবের ধুম লাগানো যাবে এগুলো এঁদের অনায়াস আয়ত্তাধীন।

বিচারবিহীন সমাজের বঞ্চিত স্টুপিড মানুষের বিচারহীনতার প্রতি পক্ষপাতকে পুঁজি করে এরা নির্দ্বিধায় রাষ্ট্রীয় হত্যার প্রতি নিরঙ্কুশ জনমত তৈরি করে ফেলতে পারে। আইন জানা সত্ত্বেও আইনের চর্চারত এরা লাইভে ঘোষণা দিয়ে যে কারও বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আবেদন নিয়ে আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। অথচ, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা সরকারের নির্দিষ্ট দফতরের অনুমতি সাপেক্ষে দায়ের করতে হয়।

এইসব ধান্দাবাজ, বদমাশ, ভণ্ডদের দখলে আজ সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, সরকার, আইন, আদালত, বিচার ব্যবস্থা তথা রাষ্ট্রের সবকটি প্রতিষ্ঠান।

এদেরকে লাইভে নদী-নালা-খাল-বিল-ডোবায় নেমে যেতে দেখা যায়। যেনো নাটকের বিবেবেকের ভূমিকায় অবতীর্ণ দেবদূত! কিন্তু এরা কখনোই গডফাদারের নাম উচ্চারণ করবে না। এরা কখনই সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ জানাবে না। এঁরা এই সমাজ, এই ব্যবস্থা বিদ্যমান রেখে জনপ্রিয় হওয়ার শর্টকাট পথে হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো হাজার হাজার ইঁদুর সদৃশ মানুষের কাফেলায় নেতৃত্ব দেবে। এবং একদিন খাঁদের প্রান্তে নিয়ে এসে বলবে, আত্মহত্যাই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

নিউজ২৪.ওয়েব/ডেস্ক/মৌ দাস. 

newstwo

Read Previous

চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যা

Read Next

“আর কেউ চ্যালেঞ্জ নেয়ার আছে কিনা বলুন”- প্রদীপ বড়ুয়া জয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *