বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় ভারত!

নিউজ২৪ ডেস্ক: কিরঘিজস্তানের বিমসটেকের এসসিও সম্মেলন আগামী সপ্তাহে, তার আগে প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে বার্তা দিল ভারত। অবশ্য বাংলাদেশের জন্য আরো বন্ধুত্বের বার্তা আর পাকিস্তানের জন্য সরাসরি না হলেও ঘুরিয়ে বার্তা। ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র এসসিওর পার্শ্ব বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি এবং ইমরান খানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য মঞ্চের বক্তৃতায় নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের নাম না করে বিঁধেছেন। তার দাবি, প্রতিবেশী নীতির প্রশ্নে বিমসটেকভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ সার্কের কিছু ‘সমস্যা’ রয়েছে। জয়শঙ্করের সোজাসুজি বার্তা, বিমসটেকের ওপর ভারত বেশি জোর দিচ্ছে। এ ধরনের কোনো মঞ্চকে সঠিকভাবে কাজে লাগালে তবেই এগোনো সম্ভব। জয়শঙ্করের মন্তব্য, সবাই জানেন, সার্কের কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই সন্ত্রাসবাদকে সরিয়ে সংযোগ, পরিকাঠামো, বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অংশীদারত্বকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্ধারিত লক্ষ্যে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে লেখা এক চিঠিতে, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সম্পর্কে রূপ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন এস জয়শঙ্কর।

তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনালগ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারত্বের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দুই দেশের অংশীদারত্বকে সে পর্যায়ে নিয়ে যেতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে তার বিশ্লেষণ, প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সম্পর্ক যে গভীর সম্পর্কে রূপ নিয়েছে, তা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতার এবং নেতৃত্বের কারণে। দ্রুত বাংলাদেশ সফরে যেতে চান নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

পাশাপাশি এবারের লোকসভা নির্বাচনের ভোটের প্রচারে যেভাবে এবং ভঙ্গিতে পাকিস্তান-বিরোধিতাকেই প্রধান অস্ত্র করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাতে শপথ নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলা তার পক্ষে রাজনৈতিকভাবে স্বস্তিদায়ক নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র রভিশ কুমারের কথায়, কিরঘিজস্তানে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা নয়। লস্কর নেতা হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ করেছে পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের মুখপাত্রের বক্তব্য, হাফিজ সইদ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এর আগে পাকিস্তান যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, সেগুলো সবই স্বল্পমেয়াদি। কিছুদিন পরই ফের লস্কর নেতা হাফিজ সইদ ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেছে। দেখতে হবে পাকিস্তান কতটা কার্যকরী পদক্ষেপ করছে।

এদিকে দিল্লির একটা মহলের বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে সামগ্রিক আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না করলেও ট্র্যাক টু-এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার ইঙ্গিত মিলেছে গত দুই সপ্তাহে। কূটনীতিকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে এখনই ঢাক পিটিয়ে সর্বোচ্চ স্তরে কথা শুরু করা হবে না। কিন্তু আলোচনার ভিত তৈরির কাজটি কিরঘিজস্তান থেকেই শুরু হতে পারে। সব মিলিয়ে বিমসটেকের আগে প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকে বার্তা দিয়েছেন ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আর সেখানে সার্ক ছাপিয়ে উঠে আসছে বিমসটেকের কথা। পাকিস্তান নয়, বদলালে সার্ক আপাতত জলের তলায়।

নিউজ২৪ ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

MD Hridoy

Read Previous

বাংলালিংক “গেম অন”-এর অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও আইভিআর সিস্টেমের সুবিধা

Read Next

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, নিহত ৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *